Loading...

+01727175782 - 01711024372

Goodinsee

Goodinsee
Women

Computer Virus

Description

Computer Virus


ভাইরাস হল এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম । যা অন্য প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে নষ্ট করে দেয় । কম্পিউটার ভাইরাজ এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং যা কম্পিউটারে সংরক্ষিত ফাইল ও ডিস্কের অভ্যন্তনীণ পদ্ধতিকে নষ্ট করে ফেলে 

কম্পিউটার ভাইরাস একটি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম যা ডিভাইস বা সিস্টেমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও সফটওয়্যারের ক্ষতি করে। কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষ্য হল সিস্টেম ব্যাহত করা, পরিচালন সমস্যা সৃষ্টি করা, এবং গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ক্ষতি এবং ফাঁস করা।

ভাইরাস (Virus) শব্দটির পূর্ণরুপ হল Vital Information Resources Under seize, অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।গবেষক ফ্রেডরিক কোহেন সর্বপ্রথম ভাইরাসের নামকরণ করেন।


কম্পিউটার ভাইরাস এর ইতিহাস

১৯৭১ সালে প্রযুক্তিবিদ রবার্ট বব থমাস নিজে থেকেই ছড়াতে পারে এরুপ একটি পরিক্ষামূলক কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করেন, যার নাম ছিল ক্রিপার ভাইরাস (Creeper virus)। ক্রিপার TENEX অপারেটিং সিস্টেম চালিত DEC PDP-10 কম্পিউটারগুলোকে সংক্রামিত করতে আরপানেট ব্যবহার করেছিল।

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ১৫ বছর বয়সীএক কিশোর যার নাম রিচ স্ক্রেনটা এমন একটি প্রোগ্রাম বা কোড লেখে, যা ফ্লপি ডিস্ক এর মাধ্যমে অ্যাপল টু কম্পিউটারকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই প্রোগ্রামটি  প্রতি ৫০ বার পরপর কম্পিউটার রিবুটিংয়ের সময় একটি ছোট্ট বার্তা দেখাত

কম্পিউটার ‘ভাইরাস’ ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর জন্ম লাভ করেন। এই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক এক সেমিনারে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত একজন ছাত্র যার নাম ফ্রেড কোহেন প্রথম একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম প্রদর্শন করেন। তিনি একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারে ছোট্ট একটি সংকেত বা কোড প্রবেশ করিয়ে মাত্র পাঁচ  মিনিটের ভিতর উক্ত কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। 

এছাড়াও তিনি এই একই কোড বা সংকেত ব্যবহার করে আরও চারটি প্রদর্শনীতে গড়ে মাত্র আধঘণ্টা সময়ে সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে পুরো কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন

লেন অ্যাডলেম্যান যিনি কোহেনের উপদেষ্টা হিসেবে  পরিচিত। তিনি কোহেনের এই নিজে থেকেই নিজের কপি বা অনুলিপি সৃষ্টির প্রোগ্রামটিকে ভাইরাসের সাথে তুলনা করেন এবং ইহাকে ‘ভাইরাস’ নামে অভিহিত করেন। তখন থেকে এই ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রামের নাম হয়ে গেল কম্পিউটার ভাইরাস

১৯৯২ সালে মাইকেল অ্যাঞ্জেলা ভাইরাসের উদ্ভব ঘটে। এটি লাখ লাখ কম্পিউটার অচল করতে সক্ষম ছিল। ১৯৯৯ সালে চিআইএইচ বা চেরনোবিল নামক ভাইরাসের আক্রমণে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে


কম্পিউটার ভাইরাসের নাম

বর্তমানে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ভাইরাস রয়েছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় কম্পিউটার ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে

১.মেলিসা (Melissa)

২.দ্য ক্লেজ ভাইরাস (The Klez Virus)

৩.নিমডা (Nimda)

৪.আইলাভইউ (ILOVEYOU)

৫.মাই-ডুম (MyDoom)

৬.স্টর্ম ওয়ার্ম (Storm Worm)

৭.ক্রিপ্টোলকার (Cryptolocker)

৮.এস কিউ এল স্ল্যামার (SQL Slammer)

৯.কনফিকার (Conficker)

১০.কোড রেড (Code Red)

১১.স্টাক্সনেট (Stuxnet)

১২.টিনবা  (Tinba)

১৩.মরিস ওয়ার্ম (Morris Worm)


কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

কম্পিউটারে ভাইরাস থাকার লক্ষণ গুলোর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো নিম্মরুপ

১.কম্পিউটার হঠাৎ করে রিস্টার্ট হওয়া

২.কম্পিউটার চলতে চলতে হ্যাং হওয়া

৩.কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়া

৪.কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মেমোরি হ্রাস পায় ফলে কম্পিউটারের গতি কমে যায়

৫.কম্পিউটার অন হতে বেশি সময় লাগে

৬.কাজ করার সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে

৭.হার্ড ডিক্সে ফ্রি  স্পেস কমে যায়

৮.কোন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করার সময় অনেক বেশি সময় নিবে

৯.কম্পিউটারে সেভ  করে রাখা ফাইলগুলি এমন নাম ধারন করবে যা পড়া যায় না

১০.অনেক ফাইল হিডেন করে দিতে পারে


কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়

আপনার কম্পিউটার বা যেকোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিম্মোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করুন

১. ক্ষতিকর সফটওয়্যারগুলো চিহ্নিত পূর্বক কম্পিউটারের মেমোরি থেকে ডিলেট করা

২. কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পুনরায় অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা। সি ড্রাইভ থেকে অপারেটিং সিস্টেম ফরমেট দিয়ে অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করলে যেকোনো ধরনের ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

৩. কোন  সফটওয়্যার ইনস্টল করার  আগে ভালোভাবে  যাচাই পূর্বক ইনস্টল করা 

৪. ভালো  মানের এন্টি ভাইরাস ব্যবহার করতে হবে এবং  নিয়মিত স্কানিং করে অপারেটিং সিস্টেম কে ভাইরাস মুক্ত রাখতে হবে

৫. ইন্টারনেট ব্যবহার করলে কম্পিউটার খুব সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কোন সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে 

৬. ইন্টারনেট থেকে কোন  ফাইল বা সফটওয়্যার ডাউনলোড  করার সময় ভালোভাবে যাচাই বাচাই করে সেগুলো ভাইরাস মুক্ত আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে

৭. কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম হলো পেন ড্রাইভ, কার্ড রিডার বা ফ্লপিডিক্স এই ডিভাইস গুলি কম্পিউটারে প্রবেশের পূর্বে ভাইরাস মুক্ত আছে কিনা সেই বিষয়ে  নিশ্চিত হতে হবে 

৮. যে কোন শেয়ার ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা  অবলম্বন করতে  হবে। যেমন আপনার মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে বুলুটুথ ব্যবহার করে কোন কোন কিছু পারাপার করা যায় সেই ক্ষেত্রে উক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ ভাইরাস মুক্ত আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

৯. পিসি টু পিসি নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে এক পিসি  হতে অন্য পিসিতে সংযোগ করা যায়। ফলে এক পিসিতে  ভাইরাস থাকলে অন্য পিসিও সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে স্বাভাবিক ভাবেই। তাই পিসি টু পিসি নেটওয়ার্কিং স্থাপনের পূর্বে অবশ্যি পিসি সমূহ ভাইরাস মুক্ত আছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে

১০. ওয়াই ফাই ব্যবহারের ফলে পিসি থেকে মোবাইলে বা মোবাইল থেকে পিসিতে সহজেই  ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে তাই ওয়াইফাই ব্যবহারের পূর্বে পিসি বা মোবাইলে এন্টি ভাইরাস ব্যবহার করতে হবে


কম্পিউটার ভাইরাস এর বৈশিষ্ট্য

১. কম্পিউটার ভাইরাস এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামগুচ্ছ

২. কম্পিউটার ভাইরাস পুনঃ উৎপাদনক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে

৩. ভাইরাস স্থায়ী এবং অস্থায়ী ০২ ধরনের হতে পারে

৪. ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়া ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে না

৫. এটি বহনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়

৬. বিভিন্ন রকম ভাইরাসের ক্ষতি করার ক্ষমতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে